Saturday, April 29, 2017

কেলভিন আর হবস-এর মজার সব অভিযান ~~~

বাংলা কমিকসের জগতে বৈচিত্রতার বড়োই অভাব, বিশেষ করে ছোটদের মনের মতো কমিকস খুঁজতে গেলে এখনো সেই আদ্যিকালের হাঁদা-ভোঁদা-বাঁটুল-নন্টে-ফন্টে ছাড়া আর কোনও নাম তেমন খুঁজে পাওয়া যায় না। সত্তরের দশকে মাসিক আনন্দমেলার হাত ধরে আমার মতো লাখো লাখো বাঙালি কিশোর এক ভিন্ন স্বাদের ইউরোপিয়ান কমিকসের মুখোমুখি হয় - আর কিছুদিনের মধ্যে কি করে জানিনা "টিনটিন, কুট্টুস, ক্যালকুলাস ক্যাপ্টেন, আর জনসন-রনসন" আমাদের চোখের মণি হয়ে ওঠে। ইন্দ্রজাল কমিকসের বাজার কিন্তু তখন বেশ গরমই ছিলো, কিন্তু টিনটিনের আবেদন ছিলো চূড়ান্তরকম ভাবেই অপ্রতিরোধ্য ও অনস্বীকার্য। ইন্টারনেটের দৌলতে আজ বিদেশী সিনেমা, বই বা কমিকস আমাদের সাধ্য ও নাগালের মধ্যে। তাই আজকালকার দিনের বাচ্চাদের কাছে হাঁদা-ভোঁদা-বাঁটুল আর টিনটিন-অ্যাসটেরিক্স-এর বই পাশাপাশি রাখলে, তারা যে কোনটা বুকে জড়িয়ে ধরবে তা বলাই বাহুল্য !    

আমাদের আজকের পোস্ট অবশ্য টিনটিন বা অ্যাসটেরিক্সকে নিয়ে নয়। সম্প্রতি আমার বিচ্ছু ছেলের হাত ধরে, তার মতো করেই আবার আমার ছোটদের কমিকস পড়া শুরু হয়েছে - আর তার সূত্র ধরেই 'কেলভিন আর হবস'-এর সাথে আমার নতুন করে পরিচয়। এর আগেও অবশ্য আমি বেশ কিছু 'কেলভিন আর হবস'-এর কমিকস পড়েছি, কিন্তু তখন সেই কমিকসের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সূক্ষ রসিকতা ও বিদ্রুপ-কৌতুকে ভরা স্ক্রিপ্টের মজা তেমন করে পাই নি। হয়তো বিচ্ছু কমিকসের স্বাদ বুঝতে গেলে একজন বিচ্ছু ছেলেকে অবশ্যই কাছাকাছি রাখতে হয় !!


অ্যামেরিকান প্রখ্যাত কার্টুনিস্ট  বিল ওয়াটারসনের (Bill Watterson) এক আসাধারন সৃষ্টি 'কেলভিন' এবং 'হবস'। কেলভিন অতি দুষ্টু এক ছেলে, বয়স তার ছয় কি সাত। সে কোনও এক জায়গায় শান্ত হয়ে বসে থাকতে পারে না। মা, বাবা কিম্বা স্কুলের শিক্ষকদের কথা তার এক কান দিয়ে ঢুকে অন্য কান দিয়ে বেরিয়ে যায়। কেলভিন বুঁদ হয়ে থাকে তার নিজের অদ্ভুত চিন্তার জগতে, এক ভিন্ন কল্পনার জগতে, যেখানে ঘুরে বেড়ায় ভয়ংকর সব ভিনগ্রহের জীব, কিম্ভুত কদাকার এলিয়েন, ডাইনোসর আর নানান রকমের উদ্ভট সব প্রাণীরা। পড়াশুনোয় সে তেমন কিছু না-করতে পারলেও, পাকা পাকা কথার দাপটে যে কাউকে হার মানাতে পারে। প্রাণবন্ত, দস্যি কেলভিনের সর্ব সময়ের খেলার সাথী হলো একটা জলজ্যান্ত বাঘ - নাম তার 'হবস' (Hobbes) - তার সাথে মিলে কেলভিনের দুরন্তপনা যেন আরও হাজার গুণ বেড়ে ওঠে। তবে সবার কাছে হবস কিন্তু নেহাতই এক তুলোয় ভরা, কাপড়ের খেলনা বাঘ মাত্র। কিন্তু কেলভিন তাকে এক জ্যান্ত, বুদ্ধিমান এবং সেই সাথে ভয়ঙ্কর এক বাঘ হিসাবেই দেখে, আর তার যাবতীয় চিন্তা-ভাবনা-আলোচনা শেয়ার করে সে হবস-এর সাথেই।

July 30th, 2017 (from 'The Essential Calvin and Hobbes')

July 8th, 2017 (from 'Lazy Sunday' book)

May 27th, 2017 (from 'The Essential Calvin and Hobbes')

May 20th, 2017 (from 'Lazy Sunday' book)

May 12th, 2017 (from 'Lazy Sunday' book)

May 6th, 2017 (from 'Lazy Sunday' book)

April 30th, 2017 (from 'The Essential Calvin and Hobbes')

April 29th, 2017 (from 'The Essential Calvin and Hobbes')

April 22th, 2017 (from 'Lazy Sunday Book')

April 15th, 2017 (from 'Lazy Sunday' book)
কেলভিনের অভিযানে মাঝে মাঝেই ঘুরে ফিরে আসে একটি ছোট্ট মিষ্টি মেয়ে - নাম সুশান ওরফে "সুশী ডারকিন্স" (Susie Derkins) - সুশী থাকে কেলভিনের পাড়াতেই। তবে সে কেলভিনের মতো কল্পনাপ্রবণ নয় - সে কেলভিনের মতোই বরফ দিয়ে স্নো-ম্যান বানাতে ভালোবাসে এবং কেলভিনকে পছন্দও করে। সুশী কেলভিনের থেকে অনেক স্মার্ট, পিয়ানো বাজাতে পারে এবং পড়াশোনাতেও সে যথেষ্ঠ ভালো। অনেকের মতে সুশী-র চরিত্রটি বিল ওয়াটারসন সৃষ্টি করেছিলেন তাঁর স্ত্রী মেলিসা ওয়াটারসনের ছোটবেলার স্মৃতি থেকে। কেলভিন ও সুশী, দুজনের মায়েরা বন্ধু এবং দরকারে একে অপরকে সাহায্য করে।    

~ ~ ~ ~ ~ ~ ~

এই ব্লগে আমি প্রতি সপ্তাহান্তে একটি করে কেলভিন আর হবসের মজায় ভরপুর স্ক্রিপ্ট বাংলায় অনুবাদ করার প্ল্যান করেছি। কতো দিন সেটা চালিয়ে যেতে পারবো সেটা নির্ভর করছে অফিসের কাজের চাপের উপরে, আর কিছুটা এই ব্লগের পাঠকদের উৎসাহের উপরে... তাই ভালো-মন্দ কিছু কমেন্টসের অপেক্ষায় রইলাম।   

চলুন আজ তাহলে পড়া যাক মজায় ভরপুর কেলভিন আর হবসের কয়েকটি স্ক্রিপ্ট - বাংলাতে... 


Sunday, January 15, 2017

পিওন থেকে প্রকাশক - বাদল বসু

বাদল বসু ছিলেন আনন্দ পাবলিশার্সের প্রাক্তন-প্রকাশক। তাঁর জন্ম ১৯৩৭ সালে ঝাড়গ্রামের দহিজুড়িতে। ছোটবেলা গ্রামের বাড়িতে কাটালেও পরে তিনি চলে আসেন কলকাতায়। শুরু হয় জীবন সংগ্রাম। প্রথম জীবনে তিনি ঘি বিক্রি করেছেন, চালের দোকানে বসেছেন। তারপর ছাপাখানার কাজ। জীবনের চরাই-উৎরাই ধাপে-ধাপে পেরিয়ে একসময় তিনি হয়েছিলেন আনন্দ পাবলিশার্সের প্রকাশক। সেই সূত্রে বিভিন্ন বিখ্যাত মানুষদের সান্নিধ্যে আসা, বিশ্বের বিভিন্ন বইমেলায় অংশগ্রহণ করা এবং প্রকাশক হিসাবে অগুন্তি ভালো ভালো বাংলা বই প্রকাশ করা। 

বাদল বসুর জীবন ছিলো সব দিক থেকেই বর্ণময়। সেই বর্ণময় জীবনে তিনি পেয়েছিলেন সত্যজিৎ রায় থেকে রবিশঙ্কর, নীরদচন্দ্র চৌধুরী, অমর্ত্য সেন, শিবরাম চক্রবর্তী, গৌরকিশোর ঘোষ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সমরেশ বসু, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, শঙ্খ ঘোষ, গুন্টার গ্রাস, সলমন রুশদির মতো বিভিন্ন বিখ্যাত মানুষের কাছে আসা। তিনি মিশেছেন নানান ধরণের মানুষের সাথে। সাক্ষী থেকে গেছেন প্রচুর ঘটনার। সেই সব অভিজ্ঞতার কথাই তিনি টানটান গদ্যে লিখে গিয়েছেন তাঁর আত্মজীবনীমূলক লেখা, "পিওন থেকে প্রকাশক" গ্রন্থে। যে লেখা পড়লে শুধু সেইসব মানুষজনদের নিজস্ব জগৎকেই চেনা যায় না, সেই সঙ্গে চেনা যায় এক সময়কে। 

প্রথম প্রকাশ: এপ্রিল ২০১৬ (আনন্দ পাবলিশার্স,  মূল্য: ৬০০/-)

বাদল বসু আক্ষরিক অর্থেই ছিলেন এক যুগের সাক্ষী। যে যুগ নিয়ে ছিলো বাঙালির প্রচুর গর্ব। দেশ পত্রিকায় ধারাবাহিক হিসেবে প্রকাশিত হওয়ার সময়ই তাঁর এই লেখা আলোড়ন ফেলে দিয়েছিলো। লেখাটি শেষ করলেও 'দেশ' পত্রিকায় তার সম্পূর্ণ প্রকাশ তিনি দেখে যেতে পারেন নি। ২০১৫ সালে ৯ অক্টোবরে তাঁর জীবনাবসান হয়।    
    
আমাদের আজকের এই পোস্টে রইলো তাঁর সেই বিখ্যাত গ্রন্থটি থেকে শ্রদ্ধেয় সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়-কে নিয়ে লেখা ৩৬ পাতার দুটি পরম সুখপাঠ্য আর্টিকেল।

বইটির মূল্য (৬০০/-) আমার মতে একটু বেশিই করা হয়েছে, বিশেষতঃ বিদেশে বই পাঠানোর মাসুলকে গণ্য করলে মূল্যটি চার অঙ্ক ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু এরকম প্রাণোচ্ছল, স্বচ্ছ সরল লেখনী সেই অভিযোগ নিমেষেই মিটিয়ে দেয়।    


পিওন থেকে প্রকাশক   
(SIZE: 8.5 MB)